Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /var/sites/f/friendsblog.net/public_html/index.php:43) in /var/sites/f/friendsblog.net/public_html/wp-content/plugins/wp-super-cache/wp-cache-phase2.php on line 58
জাদু-টোনা ও জ্বীনের প্রতিকার করার নিয়ম! - Friendsblog.net

জাদু-টোনা ও জ্বীনের প্রতিকার করার নিয়ম!

Loading...
জাদু-টোনা ও জ্বীনের প্রতিকারঃ সহীহ নিয়ম

আমরা অনেক সময় যাদু-টোনা জ্বীনের আছড়ে পড়ে যাই। এর অনেক কারন আছে, এর অনেক প্রতিকার ও আছে এমনকি এর মাধ্যমে বিভ্রান্তিও আছে। আগে দেখি পুরো বিষয়টা এক নজরে কি?

যাদু-টোনা কিঃ শয়তান ও যাদুকরদের (ফকির-পীরদের) মাঝে এমন এক চুক্তি যেখানে শয়তান “হারাম” ও “শিরক” এর বিনিময়ে যাদুকরকে সহযোগিতা করবে এবং তার কাজ করে দেবে। এটা হল, গিরা-আকদ,মন্ত্র,কিছু কবিতা,লিখা, আবজাদী সংখ্যা,জ্যামিতিক বিষ, alchemy ইত্যাদি।

154544একটি উদাহরনঃ “ধরুন কেউ বোবা হইয়ে গেছে হঠাৎ যদি এর কোন মেডিকাল কারন না পাওয়া যা তাহলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যদি জানতে পারা যায় তাকে যাদু করা হয়েছে তাহলে এর আসল বিষয় হল”– তাকে কোন এক চালানকৃত শয়তান আছড় করে তার জিহবার উপর ভর করে তাকে কথা বলতে দিচ্ছে না এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
এভাবে যদি ব্যাক্তিটি দুর্বল ঈমানের হয় তাহলে তার ঘাড়ের শয়তান তাকে কানে ওয়াস ওয়াসা দিবে “অমুক অমুক ফকিরের কাছে গিয়ে তাবিজ বা মন্ত্র পড়া-পানি,চিনি,শরবত, ডাব আনো তাহলে ভালো হবে” — এভাবে সে তাবিজ গায়ে দেয় আর লোকটি ভাল হয়ে যায় (মানে ঐ জ্বীন শয়তানটি তার দেহ থেকে চলে যায়)
কিন্তু লোকটির তাবিজ যদি আপনি আবার খুলে নেন তাহলে দেখবেন সে আবার অসুস্থ হয়ে যাবে কারন জ্বীনটি আবার তার কাছে শয়তানী করে চলে আসে (কেন সে তাবীজ খুললো?) এজণ্য।

উপরের অবস্থাটি একটি রুপক হিসেবে পেশ করা হয়েছে।


এবার আসি, যাদু-টোনা ও জ্বীনের আছর কাদের হয় ও কেন হয়ঃ

১. সাধারনত যারা আক্বীদাগত দুর্বল এবং অন্তরে শিরকের-কুফুরীর অবস্থা থাকে তাদের এরুপ হয়
২. সর্বদাই নাপাক অবস্থায় থাকলে 
৩. অনেক সময় ভাল ব্যাক্তিদেরও হয় শত্রুমীর কারনে।
৪. গান-বাজনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকলে

 

যেসব কারনে জ্বীন আছড়ের সুযোগ পায়ঃ
১. খুব বেশি ভয় পেলে [যারা বেশি ভীতু]
২. অতিমাত্রায় রাগ হলে  [যারা বেশি রাগী]
৩. অতিমাত্রায় উদাস থাকলে
৪. মানুষ যখন নিজের মন-যুক্তির উপর চলতে থাকে তখন


এসময় দেখা যায় অনেক মুসলিম!! আছে যারা “হুজুর,পীর,ফকিরের” কাছে গিয়ে পানি পড়া, জাফরান কালিতে লিখা কাগজ, প্লেট ধুয়ে খাওয়া, চিনি-ডাব পড়া, তেল পড়া, কাগজে মকশা একে বাসায় ঝুলানো, আয়াতুল কুরসী বা ইয়াসীন সুরা ঘরে ঝুলিয়ে রাখে বরকতের আশায় (অনেকে মনে করে এসব কুর’আন ও আয়াত ঝুলিয়ে রাখলে বা মোবাইল, কম্পিউটারে রাখলে ক্ষতি থেকে বাচা যাবে বা বরকত হবে!! এটা শিরক এর গোপন অবস্থা) ইত্যাদি করে। এটা অনেক ক্ষেত্রে যায়েজ তো না বরং শিরক-কুফুরী তে পড়ে যায়। কারন আপনি আরাবী জানেন না যে উনি কি পড়ে ফু দিয়েছেন বা কি লিখে দিয়েছেন। একটি সত্য উদাহরন দিচ্ছিঃ

ছবিতে দেখুন এটা দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত তাবিজের কিতাব এখানে কাদের নামে কিভাবে শিরক করে তাবিজ করা হয় সেটা দেখলে বুঝবেন কত ভয়াবহ আমাদের দেশের বেদ’আতি হুজুরেরা।

 

tabiz 

যাই হোক আসল কথায় আসি। এসব বেদ’আতি উপায়ে কোনদিন শেফা সম্ভব না। এখানে মনে রাখবেন,

আপনাকে আগে জানতে হবে এই কুর’আন কে নাজিল করেছেন, কার কাছে নাজিল করেছেন আর তিনি কাদেরকে এই কুর’আন শিক্ষা দিয়েছেন আর কারা ই কুর’আন কে গবেষনা করে অনেক কিছু বের করেছেন। তখন দেখবেন এই ৩ প্রজম্মের কারো কাছে দালীল আছে কি না যে তারা কুর’আন এর আয়াত বা সংখ্যা দিয়ে কিছু করেছিলেন কি না?? তাদের রোগ শোক বালা মুস্লিবাত আর বিপদ আপদ তো আমাদের চাইতে বেশি ছিল তাই না??
সুতরাং তারা যদি এত কষ্টে থেকেও কুর’আনের থেকে তাবিয না নিয়ে জান্নাতে যেতে পারে তাহলে আমি আপনি কুর’আন্ থেকে সন্দেহজন বিষয় খুজে খুজে বা কিছু ভ্রান্ত প্রকাশনীর বানানো তাবীজ বা নকশা ব্যাবহার করে কেনই বা জাহান্নামে যাবো?? 


সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে আমাল কম হলেও গ্রহন যোগ্য তা না হলে আল্লাহ সুরা ফুরকানে হলেই দিয়েছেন অনেক আমালদার মানুষ এর আমালকে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন ধুলায় মিশিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেবেন। এর কারন তারা EXTRA বুঝে বানিয়ে বানিয়ে আমাল করত। আর কুর’আন এর আবব্জাদি সংখ্যা ও অন্যান্য নকশা এগুলা যত বড় আলেম-হুজুরই আপনাকে আমাকে বানিয়ে দেক না কেন মনে রাখতে হবে তিনি আমাদের মুহাম্মাদ(সঃ) এর চাইতে বড় কেউ না। তিনি যদি সারা জীবনে একটা তাবীয না দিয়ে জীবন পার করে দেন তাহলে আমি আপনি কি তার চাইতে বেশি কুর’আন বুঝি?? তাই ভাই সবসময় খেয়াল রাখবেন একটা নীতিমালাঃ

ইসলামে কোন আম’ল করার আগে দেখে নিবেন এটা কুর’আন-সহীহ হাদিসে আছে কিনা আর এই আম’আল রসুল(সঃ) তার সাহাবাদের কিভাবে শিখিয়েছেন এর বাইরে গেলেই জাহান্নাম।

একটা কথা সহজভাবে বলে দেয়া দরকার!! 
ভাইয়েরা যারা তাবীজ তুমার নিয়ে সংশয়ে আছেন ও এটা নিয়ে তর্ক করতে চাচ্ছেন তাদের জন্যঃ

দেখুন তাবীজের ব্যবহার হালাল ও সেটা আমাদের রসুল(সঃ) ও তার সাহাবাদের (রাঃ) দ্বারা প্রমাণিত এতটুকু দালীল বা ইতিহাস নিয়ে আসুন!! দেখুন আমাদের চাইয়ে তারা ইসলাম এর বেশি জ্ঞান রাখতেন মনে রাখবেনঃ
আল্লাহ যদি তাদের এত ইখলাস পুর্ন আমাল ও ওয়াহীর জ্ঞান থাকা সত্তেও কষ্টে ফেলে পরীক্ষা করেছেন এবং কোন তাবীজের বিধান দেন নি তাহলে আপনি আমি কি তাদের চাইতে বেশি ঈমানদার???
মনে রাখবেন!! ভাইয়েরা… সাহাবারা (রাঃ) মুহাম্মাদ(সঃ) এর কাছ থেকে শুধু এতটুকু শুনেছেন, “…যে তাবীজ পড়ল সে শিরক করল ” এবং শুনলাম তো মানলাম এই নীতিতে তারা মেনে নিয়েছেন। এর জন্যই তারা জান্নাতি।

কিন্তু আজ আপনি আমি তর্ক করে ভুল ব্যাখ্যা বুঝে ইচ্ছা মত চিন্তা করে আলেম দরবেশ, হুজুর দের কথা মেনে নিয়ে দালীল ও প্রমান ছাড়া যে আমাল করছি সেটা আল্লাহ কোনদিন কবুল করবেন না। এটা চরম বিদ’আত ও শিরকের একটা বাহন এবং অন্তরের ব্যাধি ও বটে।
যেখানে স্পষ্ট হাদিস এসেছে সেখানে আমাদের উচিত ইয়াহুদিদের মত নে পেচিয়ে সহজ প্রশ্ন উত্তর এর মাধ্যমে নিজেদের হেদায়াতের পথে আনা।

তাহলে কি করা যাবে?? 

কুর’আন ও হাদিস অনুযায়ী বিপদ-আপদের মুক্তির জন্য করনীয় ২টিঃ
(১) বৈধ ঝাড়ফুঁক ও সহীহ দু’আ পড়া (২) বৈধ ঔষধ খাওয়া

এর জন্য  বাংলায় একমাত্র সাহীহ বইটি এখানে দেয়া হল এছাড়া সাথে একটি DOC FILE দেয়া হল । যেখানে ধাপে ধাপে কি কি দু’আ পড়া উচিৎ সেটা দেয়া আছে বিস্তারিত।

or

☻তবে মনে রাখবেন কয়েকটি বিষয় খেয়াল থাকতে হবেঃ
১. আগে আপনার আক্বীদা পরিশুদ্ধ হতে হবে (এই বইটি পড়ুন সংক্ষেপে সাহীহ আক্বীদা এর বিষয় তুলে দেয়া আছেঃ সাহীহ আক্বীদার উপর কিতাব )
২. আপনার আমাল সাহীহ হাদিস এর মত হতে হবে (আজকাল কার দিনের মাজহাবী ও বিদ’আতি হুজুরদের মনগড়া আমাল হলে হবে না)
৩. আপনাকে হারাম থেকে বেচে থাকতে হবে (সুদ , ঘুষ, মদ-জুয়া সিগারেট ইত্যাদি)
৪. আপনাকে সর্বদা চেষ্ট করতে হবে পবিত্র ও অল্প হলেও সাহীহ ও উত্তম আমাল করার নিয়মিত (এক দিন তাহাজ্জুদ পড়লেন, কুর’আন পড়লেন আর ১০ দিন উদাস হলে চলবে না)
৫. প্রতিদিন আয়াতুল কুরসী পড়বেন এর সাথে সাথে কুর’আন কিছুটা হলেও প্রতিদিনই পড়তে হবে বুঝে ও তিলাওয়াত।

সর্বোপরি আল্লাহর উপর পুর্ন ভরসা ও ভয় রাখতে হবে। আশা করি এতে আল্লাহ শেফা দান করবেন। আল্লাহ আমাদের সঠিক আক্বীদার উপর আমাল করার তাওফীক দিন।

এখানে কোন ভুল মনে হলে দালীল সহ দয়া করে কমেন্ট করবেন ইন শা আল্লাহ খতিয়ে দেখা হবে।

Loading...